বিশ্ববাজারে গমের দামে নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত

বিশ্ববাজারে গমের দরে নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্ববাজারে গমের দরে নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। সরবরাহের আধিক্য, প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোর অসম প্রতিযোগিতা ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির কারণে খাদ্যশস্যটির বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এতে স্বল্পমেয়াদে গমের বৈশ্বিক বাজারে আরো দরপতনের সম্ভাবনা বাড়ছে। খবর ইউকেআর এগ্রো কনসালট্যান্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে খরা বা অন্য কোনো সরবরাহসংক্রান্ত বিপত্তির প্রেক্ষাপটে স্বল্পমেয়াদে দাম আবার বাড়তে পারে। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) এখন প্রতি বুশেল (৬০ পাউন্ড) গমের দাম ওঠানামা করছে সোয়া ৫ ডলারের আশপাশে। রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার গম রফতানি এখন বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও খাদ্যশস্যটির বাজারকে প্রভাবিত করছে। দেশটিতে গমের মজুদ প্রত্যাশার তুলনায় বেশি থাকায় দাম কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে নতুন করে চীন, মেক্সিকো ও কানাডার ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কার্যকর হওয়া এ শুল্কনীতির ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। চীন এরই মধ্যে রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে তুলনামূলক কম দামে গম মজুদ বাড়াচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী গমের দাম আরো দীর্ঘদিন নিম্নমুখী থাকবে ধরে নিয়ে আগস্টে খাদ্যশস্যের বাজারে লেনদেন করেছেন বিনিয়োগকারীরা। এ সময় শুধু শিকাগোয় শর্ট পজিশন (দাম আরো কমবে ধরে নিয়ে মজুদ অতিরিক্ত আগাম বিক্রির চুক্তি) ছাড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার। এসব কারণে গমের দরে আরো বেশি চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক গমবাজার এখন একধরনের দ্বৈত সংকটে রয়েছে। কারণ একদিকে রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী অবস্থান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল রফতানি সক্ষমতা ও নতুন শুল্কনীতি। বিনিয়োগকারীদের জন্য তাই মূল কৌশল হলো স্বল্পমেয়াদে নিম্নমুখী ঝুঁকিকে কাজে লাগানো ও দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহসংক্রান্ত বিপত্তি মোকাবেলার সম্ভাবনা মাথায় রেখে সতর্ক থাকা।

মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) হিসাবে, বিশ্বব্যাপী ২০২৩-২৪ বিপণন বর্ষে গম উৎপাদন হয়েছে ৭৯ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টন। ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষে উৎপাদন ১ শতাংশ বাড়লেও কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় খরার কারণে রফতানি সক্ষমতায় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। ফলে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও আঞ্চলিক সংকট তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে গমের দামে।

রাশিয়া গত বছর ৩ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার টন গম রফতানি করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে (জুলাই-জুন) দেশটির রফতানি বেড়ে ৪ কোটি ১৫ লাখ টনে পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এতে বৈশ্বিক গমবাজারের প্রায় ২৬ শতাংশের দখল থাকবে রাশিয়ার হাতে। অন্যদিকে উচ্চমানের গম ও এশিয়ার বাজারে ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে ২ কোটি ৯২ লাখ ৯০ হাজার টন গম রফতানি করছে অস্ট্রেলিয়া।

একসময় বিশ্ববাজারে শীর্ষ অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এখন পিছিয়ে পড়েছে। দেশটি ২০২৪ সালে মাত্র ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪০ হাজার টন গম রফতানি করেছে। অতিরিক্ত মজুদ ও লজিস্টিক সমস্যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। কানাডাও খরার কারণে উৎপাদন ও রফতানিতে সমস্যার মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালে দেশটি ২ কোটি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার টন গম রফতানি করলেও ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও